ওপেকভুক্ত দেশগুলোয় জ্বালানি তেল উত্তোলন কমেছে

ওপেক প্লাস গত নভেম্বরে দৈনিক ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

ওপেক প্লাস গত নভেম্বরে দৈনিক ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে দেশগুলোর প্রকৃত উত্তোলন এ সময় কমেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত সমীক্ষা অনুযায়ী, সদস্য কয়েকটি দেশের উত্তোলন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি নভেম্বরে ওপেক প্লাসের মোট উত্তোলন কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

সমীক্ষা থেকে আরো জানা যায়, গত মাসে ওপেক-ভুক্ত দেশগুলোয় মোট জ্বালানি তেল উত্তোলনের পরিমাণ ছিল দৈনিক ২ কোটি ৮৪ লাখ ব্যারেল। এটি অক্টোবরের দৈনিক উত্তোলনের তুলনায় ৩০ হাজার ব্যারেল কম। এ সময় সবচেয়ে বেশি উত্তোলন কমেছে নাইজেরিয়া ও ইরাকে।

উল্লেখ্য, বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহের তথ্য ব্যবহার করে সমীক্ষাটি চালিয়েছে রয়টার্স। এ সমীক্ষায় এলএসই ও কেপলারের মতো সংস্থার তথ্য এবং জ্বালানি তেল কোম্পানি, ওপেক ও এনার্জি অ্যানালিস্টদের মতো বিভিন্ন সূত্রের দেয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ও রাশিয়াসহ সহযোগী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক প্লাস। জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রাখতে এর আগে উত্তোলন কমিয়ে রেখেছিল সংগঠনটি। পরবর্তী সময় জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনা এবং বাজার হিস্যা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে উত্তোলন বাড়িয়ে আসছে। তবে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় অক্টোবর থেকে উত্তোলন বাড়ানোর গতি কমাচ্ছে সংগঠনটি।

সূত্র জানায়, অধিকাংশ সদস্য দেশই সক্ষমতা অনুযায়ী উত্তোলন করছে। পাশাপাশি আগে অতিরিক্ত উত্তোলনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কিছু দেশকে এখন তা কমাতে হচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাস্তবে খুব বেশি প্রভাব ফেলছে না।

সমীক্ষা অনুযায়ী, নভেম্বরে আট ওপেক প্লাস দেশের উত্তোলন বৃদ্ধির চুক্তির আওতায় ওপেক-ভুক্ত পাঁচ দেশ আলজেরিয়া, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) মোট দৈনিক ৮৫ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু ইরাক ও ইউএইর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল উত্তোলন কমিয়েছে। এ কারণে প্রকৃত উত্তোলন বেড়েছে দৈনিক মাত্র ৪০ হাজার ব্যারেল।

ইরাকে পাইপলাইনের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে রফতানি কমেছে। অন্যদিকে নাইজেরিয়ার ইয়োহো উত্তোলন প্লাটফর্মে অগ্নিকাণ্ড ও পরবর্তী স্থবিরতা দেশটির সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

ইরাক ও ইউএইর উত্তোলন সম্পর্কে বিভিন্ন উৎসের তথ্যের মধ্যে বিপরীতমুখী হিসাব পাওয়া গেছে। ওপেকের সেকেন্ডারি সোর্স ও সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, এসব দেশ কোটার কাছাকাছি উৎপাদন করছে। তবে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) মতো কিছু প্রতিষ্ঠানের হিসেবে এ দেশগুলোর উত্তোলন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেশি।

আরও